The social page

Monday, May 25, 2020

যানবাহনের চাকার সাথে শ্রমিকের জীবন চাকাও আটকে গেল

যানবাহনের চাকার সাথে শ্রমিকের জীবন চাকাও আটকে গেল


ঘুরছে চাকা চলছে দেশ, উন্নয়নের বাংলাদেশ। চাকা ঘুরলে দেশ চলবে, চাকা আটকে গেলে মানুষের জীবন চাকার গতিও আটকে যায়। থমকে যায় প্রকৃতি, স্থবির হয়ে যায় মানুষ, অচল হয়ে যায় শিল্প কারখানা। দ্বিপ্রহরের শেষ ভাগ থেকে শুরু করে অন্ধকারে পৃথিবী আচ্ছন্ন হবার পর পর্যন্ত অবিরাম চলে মানুষের গন্তব্যে পৌছে দেয়ার কাজ। সূর্যের আলোর সাথে আর দেখা মেলে না সন্তান পরিজনদের সাথে। সূর্যের আলোয় জনসাধারনের তিক্ত, মিষ্ট উচ্চারনের সাথেই অতিবাহিত করতে হয় যানবাহনের শ্রমিকদের। জীবন পাখি নিজেদের হাতের মুঠোয় নিয়ে ছুটে বেড়ায় অলি গলি হাইওয়ের বাইপাস, ছুটে চলে একপ্রান্ত থেকে অন্যপ্রান্ত। যানবাহনের চাকার সাথে তাদের সংসারের চাকাও বাধা। চাকা ঘুরলে সংসার চলবে, চাকা না ঘুরলে সংসারও থেমে যায়। মহামারী করোনায় লকডাউনে আটকে পড়া গাড়িগুলোর মাঝে জং ধরতে শুরু করেছে, আর কয়েকদিন পর হয়তো অচল হয়ে যাবে। একই ভাবে জং ধরেছে সেই যানবাহনের সাধারন শ্রমিকদের সংসারেও। মরিচা পরে অচল প্রায় সংসার, কোন মত ধাক্কা দিয়ে চালাচ্ছে সংসার। মৌলিক চাহিদাগুলো পূরন হচ্ছে না, বউ বাচ্চাসহ তাকিয়ে আছে অন্যের হাতের দিকে, কেউ যদি কিছু দেয়, তাহলে বউ বাচ্চা নিয়ে বেচে থাকতে পারবে।

যানবাহন বা পরিবহনের শ্রমিকরা প্রায় আড়াই মাস পাড় হয়ে গেল করোনা পরিস্থিতির কারনে তাদের কাজে যোগ দিতে পারছেন না। তাদের বেশির ভাগ শ্রমিক দৈনিক চুক্তিতে বেতন ভুক্ত। আমাদের দেশে প্রায় সত্তর লক্ষ যানবাহনের শ্রমিক আছে। এর মধ্যে ছোট, বড়, মাঝারি কিছু ট্রাক পণ্য আনা নেয়া করার জন্য চালু আছে, আর সকল প্রকার বাস চলাচল বন্ধ আছে। আমাদের দেশে গ্রাম শহর মিলিয়ে প্রচুর বাস রাস্তায় চলাচল করে। একটি বাসের সাথে চার-পাঁচজন শ্রমিক অন্তর্ভুক্ত। আরো তো রোডে অনেক শ্রমিক রয়েছেই। শুধু আমাদের দেশ নয়, পৃথিবীর সকল দেশেই যান চলাচল বন্ধ আছে (শুধু জরুরী প্রয়োজনীয় যান ছাড়া)। আমাদের দেশেও প্রয়োজনীয় যানবাহন ছাড়া সবই বন্ধ আছে। সামাজিক ভাবে যানবাহনের শ্রমিকরা এক বিশাল অংশ জুড়ে ছড়িয়ে আছে, তাদের অবস্থান ধর্মঘটে সারাদেশ অচল হয়ে যায়। বর্তমানে মহামারীর প্রভাবে যানবাহন বন্ধ থাকায় একটি বৃহৎ শ্রমিক সমাজ ঘরবন্ধি হয়ে যায়। তাদের সকল আয়ের পথ এখন প্রায় বন্ধ, অনেকে সংসার নিয়ে আছে বিপাকে, কিভাবে টিকে থাকার লড়াইয়ে নিজেদেরকে বাচিয়ে রাখবে, তার হিসাব মিলছে না কোন মতে।

যানবাহনের শ্রমিকদের বেশিরভাগ শ্রমিক অস্থায়ী দিনচুক্তিতে আবদ্ধ বলে গাড়ি না চললে মায়নে দেয়ার প্রশ্নটাও আসে না। শ্রমিকদের মুখে হতাশার উচ্চারন শোনা যায় যে, তাদের মালিক, কোম্পানী বা সরকার কোন রকম সাহায্য তাদের করছে না, এখন তারা প্রায় নিরূপায়। কেউ কেউ রাস্তায় নেমে তাদের দাবিও জানিয়েছেন। দেশ স্বাভাবিক থাকতে দেখা যেত এক মোড় থেকে আরেক মোড় পাড় হতে গেলেই হাজার হাজার নেতার নামে চাঁদা তোলা হতো। এখন চাঁদা ভোগকারী নেতারা কোথায়? যারা শ্রমিকের ঘাম ঝড়ানো টাকা দিয়ে এসি রুমে বিলাসবহুল দিনযাপন করেন, এগিয়ে আসুন সেই সকল যানবাহন শ্রমিকের পাশে,  যারা সারাদিন মানুষকে গন্তব্যে পৌছে দেয়ার কাজে ব্যস্ত থাকে। মহামারীর দিনগুনা যে কবে শেষ হবে তার কোন সঠিক তথ্য কেউ জানেনা, কবে থেকে রাস্তায় চাকা ঘুরবে তা'ও কেউ বলতে পারে না। এই অনিশ্চয়তার মধ্যে সাধারন শ্রমিকরা পতিত হয়েছে হতাশার অথই সাগরে। আবার করোনার পরবর্তী সময়ে চাকা ঘুরলে হাজার হাজার শ্রমিকের সংসারের চাকা আবার ঘুরবে, ঈদ নয়, বেচে থাকাটাই যখন দুঃসহ, সেখানে ঈদ তো বিলাসিতা। ওই নীল সমুদ্রের মালিকের কাছে আকাঙ্খা গুলো জমা রইলো, তার যদি কৃপা হয়, তবে সবাই একপ্রান্ত থেকে আরেক প্রান্ত, গন্তব্য থেকে গন্তব্য ছুটে বেড়াবে, পরিবারের মুখে ফুটে ওঠবে এক মিষ্টি হাসির ঝলক, সেই সুদিনের পথে চেয়ে থাকা তীর্থের কাকের মত।

No comments: