The social page

Thursday, May 14, 2020

বাড়ছে করোনার ঝুকি ভাঙছে সাধারন শিক্ষকদের মেরুদন্ড

বাড়ছে করোনার ঝুকি ভাঙছে সাধারন শিক্ষকদের মেরুদন্ড


            



জাতির মেরুদন্ড গড়ার কারীগরদের  টান পড়ছে নিজেদের মেরুদন্ডে। মেরুদন্ডের ক্যালসিয়াম গুলো জমে যাচ্ছে, হাড়ের মজ্জা শীতল হয়ে যাচ্ছে, নার্ভে জ্ঞান চলাচল কমে যাচ্ছে। আলসে বিশ্রামের প্রতিকূলে সম্ভাব্য সর্বনাশের নীড় গড়ে উঠছে। প্রকৃতিকে আড়াল করে আমাবশ্যার অন্ধকারের তিক্তস্বাদে আসফলিত হয় সাধারন শিক্ষকরা। নদীর এককূলে থাকি অকুল চাহিয়া, কি নিদারুন অপরূপ সৌন্দর্যের প্রশান্তিতে প্রশমিত হওয়া যায়, অতীব নিকটে তা দৃশ্যমান উল্টো। রাখাল বালকের কথা শুনতে যতটা মিষ্ট অনুভুত হয় কার্যে দীঘল ফাড়ি। যার কর্ম যেখানে তার অধ্যষিত নিষ্কন্টক ফল তারই অনুভুতির শ্রেষ্ট পাথেয়। যাদের অনুমেয় প্রতিক্ষায় কালান্তর উজ্জলিত হয় জাতির সীমান্ত চূড়ায়, কিরণ ছড়ায় দিক দিগন্তে, বিকশিত করে হাজারো প্রজ্জলিত আখি, নিমগ্ন করে বিমহীত ভালোবাসায়, প্রকৃতির ছন্দের দোলায় নিমজ্জিত শিক্ষক সমাজ। হেয় প্রতিবিম্ব আলোকবর্তিকার ল্যাম্পপোষ্ট আচমকা ঘূর্ণিঝড়ের প্রবল হুঙ্কারের সম্মুখীন। আজ বিষয় চক্রে সাধারন শিক্ষকদের আলোকপাত করার চেষ্টায় সংক্ষিপ্ত মতামত প্রতীয়মান করা।


সাধারন শিক্ষক বলতে, যারা নিবন্ধনধারী শিক্ষক নয়, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চুক্তিভিত্তিক শিক্ষাদানের জন্য নিয়োজিত থাকে। সাধারন ছাত্র-ছাত্রীদের মতই পড়াশোনা শেষ করে বা শিক্ষার্থী অবস্থায় নিয়োজিত হন। সরকারী শিক্ষকদের মত সুবিধা ও আরামপদ জীবন এই শ্রেণীর শিক্ষকদের হয় না। তারা স্কুল শেষ করে কোচিং, টিউশনিতে সময় দিয়ে নিজেদেরই যন্ত্র করে তোলে। শিক্ষক যদি হতে চায় কেউ ছাত্র হতে হবে আগে। পড়াতে হলে পড়তে হবে। এই সাধারন শিক্ষকরা অভিজ্ঞতা নেয়ার জন্য বা সংসারের টানাপোড়ানে একটা নাম মাত্র সম্বল হাতে নিয়ে শিক্ষা দান করতে থাকে। তাদের চুক্তিটা থাকে ক্লাস নিলে বিনিময় প্রদান করা হবে আর নাহলে কিছু বলার থাকবে না। আমাদের দেশে সরকারী, আধাসরকারী স্কুলের সংখ্যা খুবই কম, এখন প্রায় এক-দুই কিলোমিটারের মধ্যে স্কুল দেখা যায়, আর শহরগুলিতে তো আরো বেশি স্কুল দেখা যায়। হাজার হাজার বেসরকারী স্কুলে নিবন্ধনধারী শিক্ষক খুব কম, এসব স্কুলে চুক্তিভিত্তিক শিক্ষক বেশি নেয়া হয়। চুক্তিভিত্তিক শিক্ষকদের বেতন খুব একটা বেশি হয় না, বলতে গেলে আসা যাবার ভাড়াটা দেয়। বাড়তি ইনকামের জন্য টিউশনির বিকল্প কিছু নেই। অনেকে বেসরকারী স্কুলের সাথে লেগে থাকে, স্কুল যদি আধাসরকারী হয়, অভিজ্ঞতার আলোকে তাদের চাকরিটা পাকাপোক্ত হতে পারে।


হাজার হাজার সাধারন শিক্ষক রয়েছে, যাদের একমাত্র উপার্জন মাধ্যম স্কুলকে কেন্দ্র করে। স্কুল খোলা থাকলে বেতন পাবে, বন্ধ হয়ে গেলে বেতন অর্ধেক হয়ে যাবে। আচমকা মহামারী করোনার প্রভাবে তিন মাস প্রায় স্কুল বন্ধ, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার চেয়ে আরো ভয়ঙ্কর হচ্ছে, এমতাবস্তায় স্কুল খোলা রাখলে পরিস্থিতি আরো খারাপের দিকে যাবে। তাই পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত স্কুল খোলার কোন সম্ভাবনাই নাই, আর স্কুল না খোলা থাকলে বেসরকারী সাধারন শিক্ষকদের বেতনের তারতম্য হবে, বেতন না পেলে বাস্তব জীবনে নেমে আসবে তিমির অন্ধকার। স্কুল মালিক বা কমিটি তাদের সার্থ হাসিলের পর সাধারন শিক্ষকদের কথা ভাববে। এই অবস্থায় মহামারীর ভয়াবহতা থেকে বাচতে নিরুপায় হয়ে যাচ্ছে কিছু শিক্ষক সমাজ। অনেকে আছে সংসারের দায়িত্ব কাধে নিয়ে তালমাতাল হয়ে পরেছে। ভদ্র পোষাকের নিচে দুঃখটাকে কেন জানি দেখা যায় না, সাধারন মানুষের চোখে তা ধরাও পরে না।


স্কুল বন্ধ হবার পর থেকে স্কুল মালিকদেরও মাথায় একটা চাপ চলে আসে, সারা বছরের মোটা অঙ্কের একটা খরচ ছাত্রদের কাছ থেকে তুলতে হয়, চার পাঁচ মাস যদি স্কুল বন্ধ থাকে সব দিক থেকেই ক্ষতিগ্রস্থ হবে ছাত্র-ছাত্রী ও স্কুল কর্তীপক্ষ। স্কুল বন্ধের একমাস পর অনেক স্কুল অনলাইন ক্লাস করার সিদ্ধান্ত নেয়, কিন্তু তাতে তেমন একটা ফল পাওয়া যায় না। অনেক স্কুল সংক্ষিপ্ত সাজেশন তৈরী করে ছাত্রদের বাড়ী বাড়ী পৌছে দেয়, অনেক স্কুল কিছু শিক্ষকদের নিয়ে একাডেমিক কার্যক্রম ত্বরান্বিত করে। কিন্তু কোন ভাবে ছাত্রদের কাছ থেকে বেতন আদায় করা সম্ভব হচ্ছেনা। বেতন না তুলতে পারলে শিক্ষকদের বেতন দেয়াও সম্ভব হবে না। আর কয়েকদিন পরেই ঈদুল ফিতর, পরিস্থিতি স্বাভাবিক ধাকলে হয়তো স্কুলের বেতন, অর্ধেক বেতন, টিউশনির টাকা তুলে বউ বাচ্ছা সহ ভালো একটা ঈদ উদযাপন করতে পারতো। এখন সম্ভাব্য কোন পথই খোলা নেই সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।


এখন বন্ধু মহলে মাষ্টারের বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়, যে বন্ধুটি বেসরকারী স্কুলে কয়েক টাকা বেতনের চাকরি করে তার কথা ভাবতে হয়, ভাবতে হয় তার বউ বাচ্চার কথা, বাবা মায়ের কথা। কেমন করে চলবে বেতন না পেলে। এই সাধারন শিক্ষকগুলোর পারিবারিক, অর্থনৈতিক অবস্থাও খুব একটা ভালো থাকে না। কোন ভালো চাকরি খুজে না পেয়ে অনেকে স্কুলে ধীরে ধীরে জীবন গড়ে তুলে। অনেকের চাকরির বয়স চলে যায়, কোন না কোন জায়গায় টিকে থাকার জন্য স্কুলকে নিরাপদ সম্মানজনক পেশা হিসেবে বেছে নেন। শিক্ষকশ্রেনীর মানুষ সাধারন মানুষের কাছে কোন সময়ই হাত পাততে পারে না, সমাজে প্রথম শ্রেনীর সম্মান দেয়া হয় শিক্ষকদের, কিন্তু শিক্ষকের হাড়ির খবর কেউ নিতে যায় না। বুক চাপা কান্নায় চেপে রাখে নিজেদের ভদ্র পোষাকের কষ্টটাকে। কবে মহামারী করোনা দেশ থেকে বিদায় নিবে, সব কিছু স্বাভাবিক হবে, ছাত্র-ছাত্রীরা ছুটে যাবে স্কুলের দিকে, আনন্দে ভরে উঠবে ক্লাস রুম, গুমগুম করবে স্কুলের মাঠ, সাধারন শিক্ষকের মুখে ফুটবে হাসি, পরিবারে আসবে প্রশান্তি সেই কামনায় সকল দুঃখের মালিকের পানে পথ চেয়ে থাকা, কবে মুক্তি দিবা!






No comments: