The social page

Tuesday, May 19, 2020

যাকাত হতে পারে করোনায় অসহায়দের সহায়

যাকাত হতে পারে করোনায় অসহায়দের সহায়



চলছে রমজান মাস, মুসলমানদের ধর্মীয় দৃষ্টিকোন থেকে সর্বশ্রেষ্ট মাস। এ মাসেই নাযিল হয়েছিল পবিত্র কোনআন মাজিদ, এ মাসেই সুযোগ হয় সকল গুনাহ থেকে মুক্তি পেয়ে পবিত্রতায় শানিত হবার।  এ মাসের ফজিলত বর্ননা করে শেষ করা যাবে না। এ মাসেই ধনী-গরীব এক কাতারে এসে নামাজ আদায় করে এবং একাত্ব মতে পৌছানোর সুযোগ হয়। ধর্ম মানে শান্তি, শান্তির বার্তা প্রত্যেকের ঘরে পৌছে দেওয়ার জন্য যাকাতের বিধান রয়েছে। যাকাত ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে তৃতীয় স্তম্ভ। বলা হয়ে থাকে ইসলাম যদি একটি তাবু হয়, যাকাত হচ্ছে সেই তাবুর মধ্যম খুটি। তাবুর জন্য মধ্যম খুটি কি যে জরুরী তা সকলের বোধগম্য আছে। একটা তাবুর মাঝখানের খুটি একটু বড় হয়, যেটার উপর ভর করে তাবুটি দাড়িয়ে থাকে। একটা তাবুর চারপাশের খুটি যেমন খুব দরকারী, মাঝখানেরটা ঠিক তেমনই গুরুত্ব বহন করে। যাকাতের মাধ্যমে ধনী গরিবের সমতা ফিরিয়ে আনা হয়। আল্লাহ তায়ালা সম্পদের উপর গরীবের হক পালন করে দারিদ্রতা দুর করার জন্য যাকাত বেশ গুরুত্ব বহন করে।


হাদিসে আছে, বান্দার সম্পদের উপর দরিদ্রের হক রয়েছে, তা যথাযথ ভাবে না পূরন করলে এর শাস্তি জীবিত অবস্থায় ভোগ করতে হবে। মানুষ তার টাকাকে বাড়ানোর জন্য তার গচ্ছিত টাকা ব্যাংকে রাখে, যা থেকে প্রতি মাসে লাখে একহাজার করে টাকা আসে, যার পরিমান দাড়ায় ৭-৮ বা ১০%। আর ইসলামে বলা আছে যারা তার সম্পত্তির আড়াই পার্সেন্ট যাকাত হিসেবে দিবেন আল্লাহ তাদেরকে ৭০হাজার % লাভ দিবেন। বিশ্বাসের ধর্ম ইসলামে আল্লাহ তার বান্দাদের সম্পদের সুষম বন্টনের জন্য যাকাদের ব্যবস্থা করেছেন। কোরআন মাজিদে যেখানে সালাতের কথা আছে তার পাশে যাকাতের কথা বলা হয়েছে। কোরআনে ৮৬ বার যাকাতের কথা উল্লেখ আছে। যাকাত ইসলাম ধর্মে যাদের সামর্থ আছে তাদের জন্য ফরজ। যারা এই ফরজ কায়েম করবে তারা দুনিয়া ও আখেরাতে এর সুফল ভোগ করবে, আর যাদের উপর ফরজ কিন্তু কায়েম করবে না, তারা এর শাস্তি দুনিয়াতেই ভোগ করবে, আর আখিরাতের হিসাব তো বাকিই আছে।

অন্যান্য ধর্মেও এরকম ব্যবস্থা দেখা যায়, যেমন, হিন্দু ধর্মে ডোনেশন, খ্রিষ্টান ধর্মে চেরিটি, কিন্তু ইসলামে যেভাবে এর বন্টনের কথা বলা আছে অন্য ধর্মে উল্লেখযোগ্য কম। ইসলাম ধর্মে যাকাতের মাধ্যমে কোন দরিদ্র, বিপদগ্রস্ত এবং অভাবী মানুয়ের কল্যানের জন্য এর ব্যবস্থা করা আছে। যার দারা সকলেই যেন সচ্ছ সফল হয়ে বেচে থাকতে পারে এবং আল্লার ইবাদত করতে পারে। এক বান্দার পেটে যদি খোদা নিবারনের চিন্তা থাকে, সে খুদা নিবারন করার জন্য ইবাদতের কিছুটা তারতম্য লক্ষ্য করা যাবে।


ইসলাম ধর্মে য়াকাত ফরজ করেছে সেই সকল বান্দার উপর, যাদের সামর্থ আছে, যারা নিজেদের প্রয়োজন ব্যতিত গচ্ছিত সম্পদের উপর, মানে নিজেদের মৌলিক চাহিদা মেটানোর পর যা গচ্ছিত থাকে তা উপর। যাদের ঘরে সাড়ে সাত ভরি স্বর্ণ পরিমান বা সাড়ে বায়ান্ন তোলা রূপা পরিমান সম্পদ আছে তাদের উপর যাকাত ফরজ। এখন রূপার হিসাব করতে গেলে যে নর-নারীর কাছে ৪০-৪৫ হাজার টাকা আছে তার উপরই যাকাত ফরজ। তা সে ছাত্র, নারী যেকোন নর নারীর হোক না কেন। অবশ্য মানসিক শারীরিক বিকারগ্রস্থদের হিসাব টা ভিন্ন।


যাকাতের মাধ্যমে একটা জাতিকে কিভাবে উন্নতির দিকে নিয়ে যাওয়া যায় তা জলন্ত উদাহরণ প্রাচ্চ্যের ইসলামী রাষ্ট্র গুলো। সৌদি আরবের কথা উল্লেখ করা যেতে পারে, সেখানে যাকাত নেওয়ার চেয়ে, যাকাত দেয়ার লোক বেশি। সেখানে সরকারীভাবে যাকাত উত্তোলন করে তা দরিদ্রদের মাঝে বন্টন করা হয়। এখন তারা এমন একটা পর্যায় পৌছেছে যে, তাদের দেশে যাকাত নেয়ার লোক খুজে পাওয়া যায় না, যার জন্য তারা যাকাতের টাকা অন্য দেশের কল্যানের জন্য পাঠিয়ে দেয়। আমাদের দেশেও যদি যাকাতের সুষ্ঠ বন্টন করা যায়, যাদের উপর ফরজ আছে তাদের গচ্ছিত সম্পত্তির আড়াই % দেয়, তাহলে মহামারী করোনায় কিছুটা হলেও বিপদ কাটিয়ে উঠতে পারবে। আমাদের দেশে করোনার জন্য অনেক পরিবার পথে বসে গেছে, অনেক পরিবার ব্যবসা বানিজ্য গুটিয়ে বাসায় বসে আছে, ঘরের প্রয়োজনীয় খাবার বলতে নেই। আমাদের দেশে লক্ষ্য করলে দেখা যাবে বাড়ির গেরস্থ থেকে শুরু করে যে কোন পেশার লোক প্রচুর পরিমানে আছে যারা লাখপতি মানে লাখ টাকার মালিক। আর যাদের লাখ টাকা গচ্ছিত থাকে তাদের উপরই আড়াই হাজার করে ফরজ হয়ে যায়। আর যাদের আরো বেশি আছে তাদের যাকাতের পরিমানটা আরো বাড়বে। যদি আমাদের দেশে আঠারকোটি মানুষের মধ্যে পাঁচ কোটি মানুষ লাখপতি হয়ে থাকে, তারা যদি আড়াই হাজার টাকা করে যাকাত দেয় তাহলে প্রায় ১২৫০ কোটি টাকা উঠে। যা কি'না আমাদের দেশের দরিদ্রতা দুর করায় বিরাট ভুমিকা রাখবে। আরো তো হাজার হাজার কোটি পতি আছেই। একজন যদি এককোটি টাকার মালিক হন, তাহলে তার উপর আড়াই লাখ টাকা ফরজ। আড়াই লাখ টাকা যদি দশটা দরিদ্র পরিবারের মধ্যে ভাগ করে দেয়া হয়, তবে পচিঁশ হাজার করে প্রতি পরিবারে পরবে। পচিঁশ হাজার টাকা দিয়ে কেউ যদি চায় ছোট খাটো অনেক ব্যবসা করতে পারবে, যা কি একটা পরিবারের সচ্ছলাতার দিকে নিয়ে যেতে পারে। আমাদের দেশে যদি পঞ্চাশ লাখ টাকার মালিক পঞ্চাশ হাজার জন হয়, তাদের টাকার উপর যাকাত ফরজ হয় এক লাখ পচিঁশ হাজার টাকা করে। যদি পঞ্চাশ হাজার লোক এক লাখ পচিঁশ হাজার টাকা করে যাকাত দেয়, তবে, মোট টাকা দাড়ায় ৬২৫০ কোটির উপরে। যদি এই মহামারী করোনার সময় ৬২৫০ কোটি টাকা যদি দরিদ্রদের মাঝে বন্টন করা যায়, তাহলে, হাজার হাজার দরিদ্র লোক সচ্ছলতার মুখ দেখতে পারবে।


যাকাত গ্রহন করবে কারা? যারা দিন আনে দিন খায়, যাদের কোন গচ্ছিত সম্পদ নেই, যারা নিজেদের মৌলিক চাহিদা পূরণ করতে পারে না, যাদের শারীরিক মানসিক সমস্যায় আছে, যারা অচল, কাজ কর্ম করতে পারে না, যারা অভাবী এবং বিপদগ্রস্থ প্রত্যেক নর নারী যাকাত নিতে পারবে। যাকার দরিদ্রদের হক এবং অধিকার। যাকাত নিয়ে বলা হয, যারা যাকাত নিচ্ছে তাদের চেয়ে যারা যাকাত দিচ্ছে তারা বেশি উপকৃত হচ্ছে। কেননা আল্লাহ যাদেরকে সম্পদ দিচ্ছেন তাদেরকে সেই সম্পদ গচ্ছিত রাখতে আটকে রাখতে নিষেধ করেছেন। গচ্ছিত সম্পদ যত ব্যবহার হবে তা বেড়েই যাবে। তাই গচ্ছিত সম্পদের উপর নির্ধারিত যাকাত নিয়ে যাকাত দেনেওয়ালাদের যাচিয়ে দেন। এক্ষেত্রে গরীবরা ধনীদেরকে বাচিয়ে দেয় যাকাত নিয়ে। যাকাত যার উপর ফরজ আছে তারা যদি দরিদ্রদের সেই হক পুড়া না করেন তাকে এই দুনিয়াতেই তার শাস্তি ভোগ করতে হবে। আমাদের দেশে দেখা যায় হসপিটাল গুলোতে কেমন ভিড় লেগেই আছে, মানুষকে অসুখ যেন ছাড়তেই চায় না, দেখা যায় একটা ছোট অপারেশন করাতে এক দেড় লাখ টাকা খরচ হয়ে যায়। এমনও তো হতে পারে যে, তার উপর যাকাত ফরজ হলেও সে তা পূরন করে নি। এটাও তার উপর শাস্তি হতে পারে। বলা হয় যার উপর যাকাত ফরজ সে যদি যাকাত না দেয় তার নামাজ কবুল হবে না, আর যদি নামাজ কবুল না হয় তালে বেচেশত পাওয়াও একটু দুর্গম হয়ে যাবে। 


আমাদের দেশ যেহেতু ইসলাম ধর্ম প্রধান, সেহেতু যাদের উপর যাকাত ফরজ আছে, তারা যদি গরীব দুঃখিদের মাঝে সেই যাকাতের টাকা বন্টন করে দেয়, তাহলে এই দুর্ভিক্ষ, মহামারী করোনা থেকে হাজার হাজার পরিবার বেচে যেতে পারে, ফিরে পেতে পারে নতুন জীবন, দেখতে পারে সচ্ছলতার মুখ, সেও পরবর্তীতে যাকাত দেনেওয়ালা হতে পারে, হাজার হাজার মুখে হাসি ফুটে উঠতে পারে, সেই হাসি যদি আল্লাহ কে খুশি করতে পারে তাহলে ইসলাম ধর্ম মতে সেই যাকাত দেনেওয়ালারা আল্লাহর বেহেশত পেয়ে যেতে পারে।

No comments:

Newer Post Older Post Home