The social page

Sunday, May 03, 2020

ভুরির টানে মৃত নগরীর পানে কর্মজীবি মানুষের স্রোত

ভুরির টানে মৃত নগরীর পানে কর্মজীবি মানুষের স্রোত


সারাবিশ্বে করোনার জাল বিস্তার করেছে মাস পাঁচেক হলো। আমাদের দেশেও করোনার ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ায় লকডাউনের দু'মাস হলো। কর্মমুখী মানুষ হয়ে পরেছিল ঘরমুখো। নিম্নবিত্ত, মধ্যবিত্ত উচ্চবিত্ত সকল মানুষ আটকে পরে চারদেয়ালের মাঝে। ঘড়ির কাঁটা আটকে যায় নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত মানুষের জন্য। সময় অতিবাহিত হয় সময়ের গতিতে, বাড়তে থাকে রোগীর সংখ্যা, ফুরাতে থাকে কর্মহীন মানুষের ঘরের খাবার, বেড়ে চলে লকডাউনে সময়সীমা। সরকারী-বেসরকারী ভাবে সারা দেশে সাহায্য সহযোগীতার হাত বাড়িয়ে দেয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, পৌছাতে থাকে সরকারী ত্রান সাধারন মানুষের দ্বারে। এরই মাঝে গর্ত ফুরে বেরিয়ে আসে চাল খেকো, ত্রান খেকো কালো ইঁদুরের মিছিল। সাধারন মানুষের দ্বারে পৌছে দেয়া ত্রানের জিনিস নিয়ে চলে কালোবাজারী, উদ্ধার হয় তেলের খনি বেডরুমের ফ্লোর ভেদ করে। আবার এরই মাঝে জনমানুষের কিছু প্রতিনিধি উজাড় করে দেয় নিজেদের, টিকিয়ে রাখতে হবে সাধারন মানুষ গুলোকে।

বাংলা প্রবাদ আছে- "একমুখ সোনা ভরানো যায় কিন্তু দশ মুখ ছাই দিয়েও ভরানো যায় না।" দিনে দিনে সাধারন মানুষের ছাইচাপা হাহাকার বাড়তে থাকে, ফোরাতে থাকে হাড়ির চাল, নিভতে থাকে উননের জাল। সব অঞ্চলে বেড়িয়ে আসে করোনা যোদ্ধা সেচ্ছাসেবীরা। সাধারন ভুভুক্ষ মানুষের দ্বারে-দ্বারে সেবার পয়গাম পৌছে দেয়ার জন্য নিজেদের উৎসর্গ করে। কিন্তু এতে করে আটকে রাখতে পারে না অনাহারী মানুষের ভুরি ভোজের আকাঙ্খা। দিন আনা মানুষগুলো ছুটে চলে বিত্তশালীদের দ্বারগোড়ায়, তাতে হয় কি! চারমুখো মানুষের সাড়ে তিনদিনের খাবার।  আর ক'জনকেই দেয়া যায়, ক'জনের খোজই বা নেয়া যায়, কে কার কাছে যাবে, কে বা সাধ্য রাখে কোটি মানুষের মুখে আহার তুলে দেবার! কিছু মধ্যবিত্তের নাড় শুকিয়ে কাঠ হয়ে গেছে কিন্তু সামাজিকতা দেখাতে কয়েকটা চিঁড়া আর একগ্লাস পানি খেয়ে চালিয়ে দেয়। আটকে থাকা মানুষগুলোর খরচ যেন বাড়তেই থাকে। লকডাউনের সময় বেড়ে দাড়ালো ৫ই মে থেকে ১৬ই মে পর্যন্ত, এরই মাঝে অপুরনীয় ক্ষতি রোধের জন্য খুলে দেয়া হয় পোষাক শিল্প-কারখানাগুলো, মাথায় পরলো বাজ শ্রমিকের, একমাত্র অবলম্বনের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে দৌড়াতে হবে নিজ কর্মস্থলে। বেড়িয়ে পরলো মৃতনগরীর মানুষ মুত্যু স্নানে। গন্তব্যে পৌছাবে নাকি সেদিকে অচেতন হয়েই বেরিয়ে পরে রাস্তায়, মাইলকে মাইল পথ ছুটে চলে পায়ে হেটে, রিক্সায়, বেটারি চালিত যানে, মাছবাহী, মালবাহী ট্রাকে করে।

এরই সাথে সাথে মৃত্যু মিছিল বেড়েই চলেছে, বেড়ে চলেছে সাধারন মানুষের প্রয়োজন, পরিবারকে বাচাঁতে বেড়িয়ে পরছে তাদের কর্মস্থলের দিকে। ক্ষুদার্থ মিছিলের যাত্রিরা সরকারী বিধিনিষেধ কে উপেক্ষা করে শুরু করতে চাইছে তাদের কর্মযজ্ঞ। করোনার জালে মৃত্য ভয় ক্ষুদার কাছে যেন তুচ্ছ। মরতে তো হবেই না খেতে পেয়ে মরবে কেন? সুমনের বাবা বেরিয়ে গেল রিক্সা নিয়ে, আফসানার বাবা বেরিয়ে গেল দোকান খুলতে, রাবেয়ার ভাই চললো কারখানার দিকে, ধীরে ধীরে রাস্তা ভারী হচ্ছে, বাড়ছে হাটবাজারে মানুষ, কোনঠাসা হয়ে পরছে প্রশাসন। জরিমানা আর শাস্তির ভয় যেন কাউকেই থমকে রাখতে পারছে না। অজানুলম্বী ভবিষ্যৎ যেন মুখ থুবরে পরছে। কে জানে করোনার স্রোতধারা কোন দিকে বইবে! কার কাছে ভেসে উঠবে জিয়ন কাঠি! কে দেখাবে পথ বিপথগামীদের! সবাই তাকিয়ে আকাশের পানে, জিব্রাইল কখন রহমতের বর্ষন বয়ে আনবে।