The social page

Monday, May 04, 2020

ভয়ঙ্কর করোনা পরিস্থির মাঝেও তামসার রঙবাহার



ভয়ঙ্কর করোনা পরিস্থির মাঝেও তামসার রঙবাহার



একুশ শতকের ভয়ঙ্কর আতঙ্কিত মহামারীর নাম করোনা। যার বিস্তারে একযুগে থমকে গেছে সারাবিশ্ব, স্থবির হয়ে পরেছে বিশ্বচাকা, স্থম্বিত মানুষ, টালমাটাল সরকার ব্যবস্থা, নুইয়ে পরেছে অর্থনীতি, আতঙ্ক বানিজ্য ব্যবস্থায়, চিন্তিত বুদ্ধিজীবিরা, চায়না ইঞ্জিনের মত চলছে বিজ্ঞান, হাটি হাটি পা পা করে এগুচ্ছে চিকিৎসা ব্যবস্থা, হসপিটালে রোগীর আর্তনাত, স্বজনদের বুকফাটা কান্না, সাধারন মানুষের ভয়ের মাঝেও চলে কেলাসিজম, ঘটে তামসার হাটহাজারী। শুরু হয় করোনার প্রাদুর্ভাব, সারাবিশ্বের চোখ চিনের উহানের দিকে। সেই উহান থেকে চাঁদের আলোর মত নিজেদের ঘরে এসে পৌছাবে তা হয়তো কেউ কখনো ঠাউর করতে পারে নি। সবাই নিজেদের শক্তিধরই মনে করেছিলো। ভেবেছিল নিজেদের কুঠিরে এলে কিছু ছিড়তে পারবে না। বাস্তবতা তো চেপা শুটকি দিয়ে মোঁরগপোলাও নয়। ঠিক নিজেদের উঠানে এসে করোনা তার নিজের রূপে বিকশিত করে সকল শক্তিধর রাষ্টের মুখে পেস্বাপ করে ছুঁচো বানিয়ে দিয়ে গেল। হতবাক বিশ্ব, অবাক প্রযুক্তি, নীরব চিকিৎসা।

সাত সাগরের ওপার থেকে আমার সোনার বাংলায় অঙ্কুরোদগম লাভ করে করোনা ভাইরাসের আতঙ্ক। সবেমাত্র শনাক্ত হওয়ার সাথে সাথে জনৈক নেতা বলেই ফেললেন যে, করোনা তাদের থেকে শক্তশালী হবেনা। হয়তো জাস্টিস ট্রুডোর অনুপ্রেরণা পেয়েই সাহস যোগাতে সমর্থ হয়েছে। আরেক জন তার সাথে পাল্লা দিয়ে বলে ফেললেন যে, তাদের প্রস্তুতি নেয়া আছে। অনেকে ঢাল তলোয়ার নিয়ে তৈরি। করোনা প্রবেশ করলো ৪৭ তম দিনে ৬৮৮ জন আক্রান্ত সহ প্রায় দশ হাজারের বেশী আক্রান্ত হয়ে গেছে। কোন কিছুতে কোন কাজই হচ্ছে না। বাড়ছে লকডাউনের সময়, এতোদিনে কিছু বিষয়ে গুটি কয়েক মানুষ কিছু তামসার দিকে নিয়ে গেছে। বাঙালী জাতি রঙরসের জাতি, এ জাতি মরার আগে হেসে মরতে পারলে সার্থক জনম লাভ করে। নাহলে, সারাবিশ্ব যখন কোণঠাসা, তখন নিরাপদে ঘরে থাকার ছুটি পেয়ে আনন্দভ্রমনে চলে যায়! গেল তো গেল ছুটি পেয়ে ভাইরাস ছড়িয়ে দিল সারাদেশে।

বিদেশ ফেরত হাজার হাজার ভাইয়েরা দেশে এলে কেউ কেউ জানতোই না কার শরীলে পজেটিভ। সবাই দেশে আসার পর তাদের হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকতে বলা হলো; অনেকে তা পালন করলেন। আবার অনেকে মনে করলেন আমি তো ভদ্রলোক, আমি অনেক স্ট্ররং, তার মধ্যে আবার জুম্মা মুসুল্লি (শুধু শুক্রবারের নামাজ পরে) তাকে করোনা ধরবে, এটা চিন্তাই পাপাচার্য। এতোদিন পরে দেশে এসেছে ঘরে বসে থাকবে এটা কিভাবে সম্ভব, বন্ধু-বান্ধব, আত্নীয় স্বজন যারা আছেন তাদের কেউ তো বিলিয়ে দিতে হবে! সে যা বিদেশ থেকে বহন করে নিয়ে এসেছেন এবং সে ভাইরাস বিলিয়ে দিলেনও। যা ঘটলো, ছড়াতে থাকলো বিষাক্ত করোনার ভাইরাস।

লকডাউনের পর্যায় শুরু; মাঠে শুধু প্রশাসন আর চিকিৎসা সেবীরা। কোন রোগীকে যদি সন্দেহে অবজার্ভেশনে রাখা হতো এর মধ্যে গুটি কয়েক চালাক মনু পালিয়ে যেতেন হসপিটাল থেকে। তাদের ধারণা তাদের কিচ্ছু হতে পারে না। পালিয়ে গিয়ে বারটা বাজালো সমাজের। টিলোস্পেট খেলার এ পর্ব প্রশাসন যেন সামিল হয়ে গেল। মানুষকে সতর্ক করার জন্য, ঘরে ঢুকানোর জন্য মাঠে নামলো প্রশাসন। তারা যে দিক দিয়ে যায় সেদিক দিয়ে সকলে ঘরে ঢুকে, আবার এলাকা থেকে চলে গেলে কেউ কেউ বাতাস খেতে বেরিয়ে পরে। এ'যেন শালা দোলাভাইয়ের চোর-পুলিশ খেলা। বলা হয়েছে জরুরী প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে না বের হওয়ার জন্য। কি বলে এসব! বের হবো না! কি করে হয়! সবার কি করোনা হয়? তারা ঘরে থাকলে পিংকির মা'র পিংকিকে কে দেখত যাবে? যাকে না দেখলে হাগু আটকে যায়, শব্দ করে বায়ু আসে, রাণীক্ষেত রোগের দেখা দেয়।

সরকার সাধারন মানুষের যেন দুর্ভোগ পোহাতে না হয় সেজন্য ধাপে ধাপে ত্রান পৌছে দেয়ার জন্য বিভিন্ন জায়গায় পাঠিয়ে দেয়া হয়। তাতে করে দেখা যায় কিছু মানুষের দুর্গোপূজোর প্রসাদ হাতে পাওয়ার মতো অবস্থা। কেউ কেউ মনে করতে থাকলো সরকার মামা আমার কাছে জিনিস পাঠিয়েছে, এ জিনিস আমার বাপের হয়ে গেছে, আমি যাকে খুশি দিব! যাকে খুশি নয় দিব না।  বাহ! তারপরে সরকারী মাল ঘরে ঢুকিয়ে, ধুপ কাঠির ধোয়া দিয়ে দেবতা ওসিরিজের নাম জপতে থাকে। এর মধ্যে আমাদের কিছু চৌকুশ প্রশাসন তাদের পূজোনীয় জিনিস দেখে ফেলে, ঠ্যালা কিভাবে সামলায়! এ যেন লুঙ্গী তুলে মাস্ক বানানোর অবস্থা। 

কিছু কিছু এলাকায় ত্রান বিতরণের জন্য সিন্ডিকেট গঠন করা হয়। দেখা যায় সবার এলাকাতেই গরীব দুঃখীর সংখ্যা বেরে গেছে। যার লাগবে তারও চাই যার না লাগবে তারও চাই। সবাই মোশাররফ ভাই হয়ে যায়, সেকি ট্রিকস! সে কি উপস্থাপন শৈলী! নিজেদের জাহির করতেই হবে, তারাই ত্রান বিতরনে সেরা কাপটি নিবে। আর ত্রান বিতরনের সময় ফটোশেসন না করলে মানুষতো জানবেই না যে, তাদের কার কত সম্পত্তি বিলিকরণ করা হচ্ছে।

যারা দিচ্ছেন তারা তো নিভৃতিতে দিচ্ছেনই, আর যারা খাচ্ছেন তারাও দিচ্ছেন। আর যারা পাচ্ছেন তারা তো ঈঁদের জামা হাতে পাওয়ার অবস্থা, আর যারা না পাচ্ছেন তাদের নিম পাতার রস মুখে গুজে দেওয়ার মতো অবস্থা। মুখের ভাষা ফেন্টাসি কিংডমের রাইট্সের মতো স্লিপ করে বলতে থাকে, "আমরা ভোটটা দিসিলাম দেইখাই  ওই চেয়ারডাত বইসে, না হইলে আমগর মত লাইনে খারায়া থাহন লাগতো, পরেরবার ভোটটা চাইবার আইলে মুখে ঝামা ঘইষা দিমু, টুটের পুলারা!" 

এবারের যুদ্ধে অনেকে বীরত্তম হচ্ছেন, আমরা অনেক সেচ্ছাসেবী যৌদ্ধা ভাইদের দেখতে পাচ্ছি, যারা জীবনের ঝুকি নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। আবার বিপরীত ভাবে কৌশলী যোদ্ধাও দেখতে পাচ্ছি। বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, উন্নয়নমূলক প্রতিষ্ঠান, ধনাঢ্য ব্যক্তিদের দ্বারে হাজির হচ্ছে কৌশলী কিছু যৌদ্ধা, যাদের নেশার টাকা জোগাড় করার জন্য নিজের ভাইয়ের প্রয়োজনীয় জিনিস বিক্রি করতে হয়। ভাবটা থাকে এমন যে, আমাকেই এ জাতিকে দেখতে হবে। তার দিকেই তাকিয়ে আছে ক্ষুদার্থ জনগন, সে ত্রানটা পৌছানোর পরে চুলায় রান্না হবে। অথচ সময় স্বভাবিক থাকার সময় কাউকে সম্মান দিয়ে কথা বলতে দেখা যায়নি। 

সাধারন মানুষ এভাবেই পাড়ি দিচ্ছে মহামারী, দুঃখে, কষ্টে, বেদনায়, আশা, আকাঙ্খায়। বার বার সতর্ক হবার জন্য বলা হচ্ছে কিন্তু আরো বেশী অবহেলায় পরিণত হচ্ছে। কিছু মানুষের অবজ্ঞা অবহেলায় ঘটে যাচ্ছে মারাত্নক ঘটনা। সবাই সাহসীকতার পরিচয় দিতে যায়। অনেকে মনে করে তাদের সাহস আর নুন্টু সবচেয়ে বড়। কিন্তু ভাই এমন সাহস করতে যাবেননা যে অন্য দশজনের ক্ষতির কারণ হতে পারে। কাজ করুন সকলের আশির্বাদ পাবেন, বাটপারী করলে তো ঘৃণাই পাবেন!

5 comments:

Md. Al-amin said...

আশির্বাদ চাই

salim mahamud said...

ভালো লিখেছো

Md. Al-amin said...

ধন্যবাদ সেলিম

Unknown said...

লেখার হাত বরাবরই ভালো👌
চালিয়ে যাও....

Md. Al-amin said...

ধন্যবাদ