The social page

Tuesday, May 05, 2020

লকডাউনের বিরতিতে বৈচিত্র দৃষ্টিভঙ্গির আলোকলহড়া


লকডাউনের বিরতিতে বৈচিত্র দৃষ্টিভঙ্গির আলোকলহড়া 


একযোগে সারাবিশ্বকে স্তব্ধ করে দেয়ার মিসাইল হচ্ছে করোনা। মহারাষ্ট্রগুলোর হাতে হ্যারিকেন ধরিয়ে দিয়ে এ ভাইরাস এখন সীমিত বিরতির দিকে অগ্রসর হচ্ছে। যে সকল রাষ্ট্রগুলোর এখনো নাক টিপলে দুধ বের হয়, তাদের হাতে ধরিয়ে দিয়েছে স্ট্রে, আর যে দেশ গুলোর মেরুদন্ড একটু শক্ত আছে, তাদের দিয়েছে নাকানিচুবানি। কেউ কি ভাবতে পেরেছিল? অদৃশ্য বিষের বিষক্রিয়ার কথা। মমতাজ আপার গানের কথার সাথে যেন মিলে যায়- 'চোক্ষে তারে যায়না দেখা মলম দিবি কোন জায়গায়।' কি বিষে দঙ্গশিল দেশে ওঝার বোঝার সাধ্য নাই। এ বিষ নির্মুল করতে নানান দেশে হরেক মেলের লহড়া বিরাজমান। কেউ কার্যকরী ঔষুধ বের করার চেষ্টায় আছেন, আবার কেউ অন্যেরটার উপর চালিয়ে দেবার অপেক্ষা করছেন। প্রায় অনেক দেশে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে না এলেও লকডাউনের বিরতি টেনেছে। অনুরূপ আমাদের দেশেও সীমিত আকারে ব্যবসা বানিজ্য, কলকারখানা খুলে দেবার কথা বলা হচ্ছে। এ নিয়ে নানা জনে নানান মত দৃষ্টিগোচরে এলো।

করোনা ভাইরাস শনাক্তের ৪৮ তম দিনে সর্বোচ্চ রেকর্ডে ৭৮৬ জনের শরীলে করোনা পজেটিভ পাওয়া গেছে। সামনে ইদুল ফিতর উপলক্ষে ব্যবসা বানিজ্য সীমিত আকারে খোলে দেবার চিন্তা করা হচ্ছে। কিন্তু কবে নাগাদ কার্যকর হবে তা এখনো ধুয়াশা। এখবর পাশের বাড়ির ভাবী শোনার সাথে সাথে ঈদ শপিংয়ের ফর্দ রেডি। বাজারের সেরা শাড়িটি এবার তার ঘরেই আনতে হবে। রান্নায় তার মনোযোগ নেই, ভেবেই পাচ্ছে না তার আর কি দরকার! খাবারে রুচি চলে গেছে, যেন, কতো কাল ধরে  ভালোমন্দ কিছু খাওয়া হয় না। বাসায় তৈরী খাবার গুলো যেন পানসে হয়ে গেছে। কোথায় রেষ্টুরেন্টের মজাদার খাবার আর বাসায় নিজের তৈরী আলুসেদ্ধ, বিষয়টা কি হয়! এটা কি চলে! বাসায় বসে বসে সব আনকালচার্ড হয়ে যাচ্ছে। অন্য দিকে লকডাউনে ভাইদের কিছুটা পকেট রক্ষা পেয়েছে। 

একশ্রেনীর মানুষ ভাবছে কিভাবে এই বিশাল জনগোষ্ঠীকে রক্ষা করা যায়, এই বিপদ শঙ্কুল অবস্থায় নিজেদেরকে টিকিয়ে রাখা যায়। আরেক দিকে বৃহৎ জনগোষ্ঠীর আভ্যন্তরীন ও বাহ্যিক অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার সঙ্কটাপন্ন অবস্থা। কেউ কেউ মনে করেন, মানুষের নিরাপত্তার জন্য এ লকডাউন, মানুষের অস্তিত্ব যদি টিকে না থাকে কি হবে লকডাউন দিয়ে, যুদ্ধে নেমে মরবো নয়তো নিজেকে নতুন করে আবিষ্কার করবো! অনেকে তো হরির নাম বলে নেমেই পড়েছো! 

শপিংমল, প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দোকান, স্পেশাল কালেকশনের দোকান সব জায়গায় ঈদ উপলক্ষে বেশ জমজমাটই থাকে। এবার ভিন্নধর্মী ঈদ আয়োজনে থাকবে ব্যতিক্রম দৃশ্য। ক্রেতার তুলনার দর্শক সাধারনের উপস্থিতি লক্ষ করা যাবে তুলনামূলক বেশী। এ উৎসুক জনতার চিন্তা একটাই,  কে কে বাজারে যায় একটু দেখে আসি! নিজেদেরও যে ভয় আছে, সে খবর নেই! কে বের হলো এটা দেখা গুরুত্বপূর্ণ। আবার এলাকায় এসে বলবে, এ জাতির কি হবে! এদের বুদ্ধি কবে হবে! ভীরের মধ্যে হাটাই যায় না, আমি কোন মতে চেপেচুপে নিজেকে বের করে আনলাম।

কিছু মধ্যবয়সী যুবক দেখা যায়, এবার নতুন কালেকশন কি এলো তা দেখার জন্য ব্যাপক উৎসুক। দশ রোজা থেকে চাঁনরাত অব্দি আনাগোনা চলবেই! বাসায় মা বাবার কাছে বিভিন্ন প্রয়োজন দেখিয়ে বের হয়। বাইরে বের না হতে দিলে কি উপায় আছে! উঠতি বয়সী ছেলেমানুষ। তবু বলে দেয় সাবধানে থাইকো! এবারে সব মায়েরা রূপচানের সুজনের মায়ের মত বলবে, "দুরে দাড়াই থাইকা মার্কেট করবা, মানুষের কাছে মেন যাও! করোনা ধরবো! "

বাজারে নাক উঁচা টাইপের লোক একটু বেশি দেখা যায় এখন। নিজেদের কারো করোনা পজেটিভ না থাকায় গুরুত্বটা একটু কমই কাজ করে অধিকাংশের মধ্যে। এবারের বাজারের ভঙ্গিটাই হবে অন্যরকম। সবাই সতর্ক হয়েই বাজারে যাবে, বাংলা লুঙ্গির মত- উপর দিয়ে বাধ আছে নিচ দিয়ে সদরঘাট। কিছু কিছু আন্টির মেয়ে দেখা যাবে, এ মা কোথায় এসেছি! কি হবে! আর কোন দিন আসবো না, এই সরেন সরেন! যতে দিন। ভাবীরা তো অনেকে দম বন্ধ হয়ে মারা যাবে প্রায়! কত গল্প জমে আছে পেটে, কবে যে স্কুল গুলো খুলবে! একসাথে একটু মার্কেট করবে, পেটটা ভরে ভাবিদের সাথে গল্প করতে হবে।

ভিন্ন পরিস্থিতির মাঝে আরেক প্রকৃতির লোক দেখা যায়- যারা কিনা বউকে নিয়ে, বউয়ের বান্ধবীকে নিয়ে, অন্য বাড়ির ভাবিকে নিয়ে, পরিচিত আন্টির মেয়েকে নিয়ে একটু পার্কে যেতে পাচ্ছে না। তাদের তো মনটা আকু-পাকু করছে, কবে বৈশাখী বাতাস গায়ে লাগাবে, মুলা খাবে, গাজর খাবে, টমেটো খাবে, ঘাস, বৃক্ষ, লতাপাতা খাবে। আহারে কি সুখের চিন্তা, কিন্তু এ চিন্তা খুব কম মানুষেরই, যে- এবারের ঈদটা না হয় একটু সল্প পরিসরে পার করে দিই, বেচে থাকলে তো ঈদ করা যাবে! আমরা যে বাজারে জটলা পাকাতে যাবো; কে জানে কার শরীলে পজেটিভ, কে জানে কে ভাইরাস বহন করে বাড়ী ফিরে এলো, কে ই বা জানে কার কারনে ছড়াতে পারে মরনব্যধি করোনার কিট।

মধ্যআয়ের ও নিম্নআয়ের ব্যবসায়ীদের দিক বিবেচনা করে, মধ্য আয়ের মানুষের দিক বিবেচনা করে, খেটে খাওয়া মানুষের দিক বিবেচনা করে সরকার সীমিত ভাবে লকডানের বিরতির কথা চিন্তা করে ঈদ উপলক্ষে। কিন্তু একটা বিষয় খুব কম মানুষের মাথায় আছে যে, ঈদ পরবর্তী অবস্থা কি হতে পারে! এটা কারো ভাববার বিষয় নয়! শুধু কি সরকারেরই মাথা ব্যথা!

1 comment: