The social page

Wednesday, May 06, 2020

করোনায় কালো ছায়ায় কেমন কাটছে সংস্কৃতকর্মীদের দিনাতিপাত!

করোনার কালো ছায়ায় কেমন কাটছে সংস্কৃত কর্মীদের দিনাতিপাত!


চলমান যে সময়টা অতিবাহিত হচ্ছে তা হচ্ছে সংস্কৃতকর্মী ও শিল্পী সমাজের গোল্ডেনটাইম সারা বছরের জন্য। এই সময়টায় থাকতো হরেক রকম অনুষ্ঠান। প্রায় তিন মাস যাবৎ ঘরে থেকেই কাটাতে হচ্ছে দিন। নিজেদের পেশাগত কর্ম সংগঠিত হচ্ছে না বললেই চলে। কবে স্বাভাবিক হবে সময়? ফিরবে নিজেদের উঠানে, বাজবে নূপুর, গাইবে গান, আকবে ছবি নতুন প্রাণ, কবে কলোরবে ভরে উঠবে ফ্লোর, দৌড়াবে এক প্রান্ত হতে অন্য প্রান্ত, কাধে ব্যাগ হাতে খাতা, চলবে প্রযুক্তি, মাখবে পাওডার, জলবে আলো, চলবে চাকা, বাধবে ফিতা বলবে কাট, সে প্রত্যাশায় দিনগুনছে দেশের হাজার হাজার সংস্কৃতি কর্মীরা। এদেশের খুব কম সংখ্যক সংস্কৃতিকর্মী ও শিল্পী আছেন যারা উত্তোরাধিকার সুত্রে পাওয়া সম্পত্তি দিয়েই চলে যায়। আর সিংহভাগ যারা আছে, তারা তাদের নিজস্ব পেশার কর্ম দিয়েই সমাজ টিকে থাকে। সল্প আয় দিয়েই শুদ্ধসমাজের সভ্য মানুষগুলোর সাথে চলতে হয়। পায়ের উপর দিয়ে ট্রাক চলে গেলেও মুখে হাসি নিয়ে কথা বলতে হয়, কাউকে কখনো বুঝতেই দেয় না যে, আজ চলছে কোন মতে, কাল হাড়িতে চাল উঠবে না। ঘরে হরেক রকম কষ্ট চাপা দিয়ে বাইরে এসে মানুষকে বিনোদিত করে।

শিল্পী সম্প্রদায়ের আয়ের স্তরগুলো খুবই সীমিত আর সাদামাটা। তাদের প্রধান প্রধান কর্মগুলোর মাঝে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, শিক্ষাদান, টেলিভিশন মিডিয়া, এনজিও এর সচেতনতামুলক অনুষ্ঠান, বিভিন্ন ইভেন্টের আয়োজনে অংশগ্রহন প্রভৃতি। দীর্ঘদিন যাবৎ লকডাউনের ফলে প্রায় সকল সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডই বন্ধ রাখা হয়েছে। হাজার হাজার মানুষের সামনে যারা দর্শককে বিনোদিত করে তারা এখন ঘরবন্দী। তাদের আয়ের উৎস এখন নাই বললেই চলে। এমতাবস্থায় পারিবারিক ও সামাজিক এক টানাপোড়ানের কালোদিন অতিবাহিত হচ্ছে সংস্কৃতকর্মীদের। আর যাদের আর্থিক টানাপোড়ান নেই তারা মানসিকভাবে বিপর্যস্থ আছে। ঘরে টিকবে কি করে, যারা সাধারন মানুষকে প্রতিনিয়তই বিভিন্ন মাধ্যমে শিক্ষা দেয়, আনন্দ দেয়।

সংস্কৃতকর্মীদের পারিবারিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক অবস্থার ভিন্নতার ফলে করোনাময় দিনে সম্প্রীতির এক মেলবন্ধন ফুটে উঠেছে। দেশের যে কোন ক্লান্তিলগ্নে, যুদ্ধাবস্থায় এ সম্প্রদায়ই সবার আগে ছুটে যায়। বাড়িয়ে দেয় সহানুভূতির হাত, বেরিয়ে য়ায় অসহায়ের সহায় হতে, এগিয়ে চলে বুক ফুলিয়ে, ছিনিয়ে আনে বিজয়। একই ভাবে করোনাক্রান্ত সঙ্কটময় অবস্থার মাঝেও বেরিয়ে পরেছে এ বীরের দল। আমার কোন্ ভাইয়ের বাসায়, বোনের বাসায় সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে তার খোজ নেই, আমার শহরের সাধারন মানুষের মত আমার কোন সহকর্মী না খেয়ে আছে দেখে আসি, আমার এলাকায় কি সমস্যা হচ্ছে তার দিকে খেয়াল করি। ছুটে চলছে দ্বারে দ্বারে, আমাদের লোকগুলোকে ভালো রাখতে পারবো তো! আবার একসঙ্গে গান বাধবো তো!

করোনা সঙ্কট শুরু হবার পরপরই প্রশাসনের পাশাপাশি সংস্কৃতকর্মীরাও মাঠে নেমেছে মানুষ সচেতন করার সেচ্ছাসেবীকায়। তারাও হেন্ডমাইকের মাধ্যমে ঘরে থাকার অনুরোধ করে যাচ্ছে সেচ্ছাসেবক হিসেবে। আবার কেউ কেউ ছুটে যাচ্ছেন সেইসব প্রতিষ্ঠান আর ব্যক্তির কাছে যাদের সহায়তায় কিছুটা মুক্তি পাবে সংস্কৃতকর্মীরা। এভাবে এক জায়গায় প্রত্যাখিত হয়ে আরেক জায়গায় হাত পেতে দ্বারে দ্বারে ঘুরে সংস্কৃতকর্মীদের সহায়তায় ব্যবস্থা করেছেন বিভিন্ন ত্রান সামগ্রী। কেউ কেউ তার বাসার জমানো অর্থ দিয়েও সামর্থমত উপহার সামগ্রী দিয়ে যাচ্ছেন নিজেদের সহকর্মীদের। কাধে করে বস্তায় বস্তায় উপহার সামগ্রী পৌছে দিচ্ছেন বাড়ি বাড়ি। তবু যেন ভাই/বোনটি ভালো থাকে নিজেদের মত। নিজেদের অর্থ খরচ করে খোজ নিচ্ছেন, কোন সমস্যা হচ্ছে কি'না। আবার খবর নিয়ে তথ্য জোগার করে তালিকা পাঠাচ্ছেন বিভিন্ন জায়গায়। অনেক গ্রুপের কর্তারা তাদের কর্মীদের সাধ্যমত সহযোগীতা করে যাচ্ছেন একাধিকবার, খোজ রাখছেন দিনের পর দিন।

শিল্পী সম্প্রদায়ের মধ্যে এমনও অনেক শিল্পী আছে যারা দৈনিক, সাপ্তাহিক, মাসিক আয়ের মাধ্যমে দিনাতিপাত করে। অনেকে গুরুমুখী শিক্ষা দানেই একমাত্র আয়ের উৎস। করোনার জন্য তা'ও তো বন্ধ হয়ে গেছে। আবার অনেকে আছে যন্ত্রশিল্পী, যাদের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান না থাকলে আয়ের উৎস একেবারেই বন্ধ বলা যায়। মিডিয়া হচ্ছে আরেক বড় ধরনের আয়ের উৎস একটা বৃহৎ শিল্পীগোষ্ঠীর জন্য। যেটা চালু থাকলে হাজার হাজার শিল্পীর কর্মসংস্থান হয় আর বন্ধ থাকলে না খেয়ে থাকতে হয়।

যে যার জায়গা থেকে নিজেদের সামর্থ মত সাহায্য করে যাচ্ছেন নিজেদের সহকর্মীদের। আবার এর মধ্যে আগলা অনেক সমালোচকও আছেন। যাদের কাজই সমালোচনা করা, কেন এত কম দেওয়া হবে, কাকে কেন দেওয়া হলোনা, কেউ একজন কেন পেল, তাকে কেন ডাকা হলোনা, তাকে কেন ফোন করা হলো না, কারো হাগু কেন কষা, কারোটা কেন ঠিলা এ নি চার পুরুষ উদ্ধার করবে। নিনে ধননটাকেই বড় করে দেখে সব সময়। ভাবটা এমন যে, তার হাতে দায়িত্বটা দেয়া হলে তাল গাছের আগায় তুলে রাখতো।

বিভিন্ন পারশ্বপারিক দান্দিকতা কাজ করলেও একই সুতোয় এক মালা গাথার ব্রত তুলে নিয়েছেন এই করোনা সঙ্কটাপন্ন অবস্থায়। আবার একসাথে চলার প্রত্যয়ে, একই সুরে হৈ হুল্লোড়ে গা ভাসিয়ে দিতে, একই সিগেরেট ভাগাভাগি করে খাওয়ার অপেক্ষায় দিন গুনা। সবার ইচ্ছা আবার কবে পূরণ হবে, আবার মঞ্চ কবে জমে উঠবে, আবার আলো কবে জলবে আলো,  বাজবে নকশীকাথার সুর, গাইবে ঝাকড়া চুলের গান, সেই প্রত্যাশায় আকাশের পানে চেয়ে থাকা!

1 comment:

Md. Al-amin said...

Needed your oppenion