The social page

Thursday, May 07, 2020

নতুন কাপড় ছাড়া ঈদ হলেও, পরিবারের কেউ না থাকলে ঈদ হবে কি!


নতুন কাপড় ছাড়া ঈদ হলেও, পরিবারের কেউ না থাকলে ঈদ হবে কি!
     
       


সোনার বাংলা! এক স্বাধীন সার্বভৌম নাম। যার একই উঠানে উৎসবে মেতে উঠে নানা ধর্মপ্রাণ মানুষ। একই বেনীতে মালা গাথে বিভিন্ন পেশার মানুষ। বাঙালী যে একই একচ্ছত্র প্রাণ তা মহামারী করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে প্রতীয়মান। দেশের অধিকাংশ হর্তাকর্তারা তাদের সাধ্যমত র্যোগান দেওয়ার চেষ্টা করছে। উল্লেখ্য করা দরকার যে, একই বনে শিয়াল প্রকৃতির কিছু প্রাণী থাকবেই, কেউ কেউ বানরের মতো লাফাবেই, আর কারো পেট হাতির ন্যায় বড় থাকবেই। তবুও সত্য এগিয়ে সম্প্রীতির হাত ধরে এবং যাচ্ছে। করোনা ভাইরাসের আক্রমনের পঞ্চাশতম দিনের পরবর্তী সময়ে সাধারন মানুষের প্রয়োজন উপলব্ধি করে প্রায় অনেক ক্ষেত্রে সল্প পরিসরে প্রায় সবকিছু খোলার কথা বলা হয়। অন্যদিকে করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যাও ক্রমান্নয়ে বেড়েই চলেছে। মাষুষের স্থবির জীবন মানকে স্বাভাবিক ভাবে ফিরিয়ে আনার জন্য বার বার ভয় না পেয়ে সচেতন হবার কথা বলা হচ্ছে। মানতে বলা হচ্ছে সামাজিক দূরুত্ব। পড়তে বলা হচ্ছে মাস্ক, পালন করতে বলা হচ্ছে সামাজিক শিষ্টাচার।

আমাদের দেশে অনেক রামছাগল প্রকৃতির কিছু মানুষ আছে, যাদেরকে নিয়ম কানুন মানতে বলা হলে গায়ে ফুসকা পরে যায়। নিজেতো হারাধনের টেংকির জল খাবেই আবার তার পার্শবর্তীদেরও খাওয়াবেন। ভাবটা এমন হয় যে, বামনের দিক্ষা নিয়েছে, আর না হয় নন্টুতে তাবিজ গুজানো রয়েছে, তার কিচ্ছু হবে না, হবে তার বাপের। তাকে একগাছি কলা রসগুল্লার সাথে ব্লাইন্ড করে খাওয়ালেও সে বলবে এটাতে বিট লবন ছিল। এ জাতের লোক নিজে পাগারে পরবে এবং অন্যকেও চুবানী খাওয়াবে। কোন ভালো কাজ দেখলে এদের পাছায় কমলীলতা দিয়ে সুরসুরি দেয়। এরা মুক্তাগাছার মন্ডা আর নাটোরের কাঁচা গোল্লাতেও হালকা টক খুজে পাবে। এরা সরল রেখাকে একটু বক্র করে দেখতেই পছন্দ করে। সবাই যেখানে মানুষকে সহায়তা নিয়ে ব্যস্ত, তখন চান কপালের পুতেরা নেতিবাচক সমালোচনা নিয়ে ব্যস্ত। কেন লকডাউন খুলছে না, কেন খুলে দেয়া হল, এ সিদ্ধান্তে ভুল ছিল, ওটা পরে করলেও চলতো ভেরাইটিস ষ্টোর। তারপরেও পরিস্থিতি যতটা স্বাভাবিক করে চালানো যায়, চলছে।

প্রায় দুইমাস একটা বৃহৎ জনগোষ্টী তাদের কর্মের সাথে যুক্ত না থাকায় একটা বড় ধরনের টানা পোড়নের সম্মুখীন হয়েছে। যার কুফল সারা বিশ্বে বহমান। সৃষ্টির গোড়া থেকেই আমরা শট সেন্টিমেন্টের অধিকারী। প্রায় দু'মাস ঘরে বন্দি হয়ে থাকার মনোভাব খুব কম লোকেই পোষন করে। আরেকটা সূর্যের কিরণের মতো সত্য বাক্য হচ্ছে, এদেশে সত্তর পার্সেন্টের বেশি সংখ্যক লোক দু'মাস ঘরে বসে থেকে খাবে এই অবস্থাটাই নাই। যার ফলে নীতিনির্ধারকরা পরিস্থিতি পজেটিভ না থাকলেও সব কিছু স্বাভাবিক করে দেয়ার কথা বলছেন। 

আরেকটা বড় ধরনের ইস্যু হচ্ছে, আমাদের দেশ মুসলিম প্রধান দেশ, এদেশে দুটো ঈদ হচ্ছে বছরের প্রধান উৎসব। যার উপর ভিত্তি করে একশ্রেনীর ব্যবসায়ীরা তারা তাদের ছয় মাসের ইনকাম করে ফেলে। ঈদ হচ্ছে সকল শ্রেনীপেশার মানুষের সফট্ ইস্যু। এমনিতেই পহেলা বৈশাখের মত উৎসব মিস করায় ব্যবসায়ীসহ সকল প্রকার মানুষের বড় ধরনের ক্ষতি সাধন হয়েছে। তার মধ্যে যদি ঈদটাও ব্যবসায়ীরা না ধরতে পারে, তাহলে একেবারেই হাতে হ্যারিকেন আর কাধে গামছা নিয়ে বসে পরতে হবে।

হয়তোবা ঈদ হবে, বিগত ঈদ গুলোর মত আমেজ করা সম্ভব হবে না, তারাবাতি জলবেনা, আতসবাজি হবে না, ফটকা ফুটবে না, কোলাকুলিটাও সীমিত হয়ে যাবে। সবাইকে সচেতন ভাবে থেকে মহামারীর ঈদ উদযাপন করতে হবে, আর না হলে পরিস্থিতি বঙ্গোপসাগরের দিকে ধেয়ে যেতে থাকবে। কোন একদল মানুষ চিন্তিত হয়ে পড়েছে ঈদ তো কাপড় ছাড়া কোনমত পার হবে কিন্তু পরিবারের কেউ যদি এ করোনার স্রোতে হারিয়ে যায় তাকে তো আর ফেরত পাওয়া যাবে না, সারা জীবনের একটা খুটি হারিয়ে যাবে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে হয়তো পরের বছর জমিয়ে ঈদ করা যাবে কিন্তু কাউকে হারালে তো আর তাকে ফিরে পাওয়া যাবে না। যদি সকলের সতর্কতার মাধ্যমে একটি ঈদ ভিন্ন ভাবে পালন করা যায় তবে আমরা আমাদের কিছু শক্তি হারানো থেকে বেচে যাবো।

ঈদ হচ্ছে মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ উৎসব। এক মাস সিয়াম সাধনার পর নিজেদের পবিত্র করে আবিষ্কার করে ইদুল ফিতরের দিন। এই দিনে ধনী গরিব একই কাতারে এসে ঈদগাহ্ মাঠে ঈদের জামাত আদায় করে। কোলাকোলীর মাধ্যমে দুজন মিলে সৌহার্দের বন্ধন অটুট করেন। ফিন্নি পায়েশের মাধ্যমে ঈদের সকাল শুরু হয়। সারাদিন চলে উৎসবের আনাগোনা। এবার যদি হয় একটু ব্যতিক্রম ক্ষতি কি তাতে! এবার লক্ষ্য করে দেখবেন ঈদের দিন হয়তো অনেকের দু'বেলা ভাতই জুটবে না, কোরমা পোলাও তো দুরের কথা। এবারে হাজারে লাক্ষে মানুষকে দেখা যাবে যারা কাপড় কেনার কথা চিন্তাই করতে পারবে না, পারবে কিভাবে, দু'দিন পর পর যেয়ে পাঁচকেজি চাউলের লাইন ধরতে হচ্ছে, মধ্যবর্তী পিতার লম্বা লাইন ধরতে হচ্ছে দশ টাকা কেজি দরের চাউলের জন্য। পরিবার গুলো খাবারের কথা চিন্তা করবে নাকি ঈদের জামাকাপড়ের কথা চিন্তা করবে! 

এই সঙ্কটময় পরিস্থিতিতে পরিবার কর্তারা তবু চিন্তা করবে তার ছেলে-মেয়ের মুখে এক ঝলক হাসি ফুটিয়ে তোলার জন্য। সেটা কারো কাছে হাত পেতে হলেও জোগার করার চেষ্টা করবে।

অন্যদিকে জামা-কাপড় আর অন্যান্য জিনিস কেনার জন্য জন্য ভিড় জমাবে শপিংমল আর বাজার গুলোতে, এর মধ্যে কেউ যদি করোনা পজেটিভ রোগী ঢুকে যায়, তবে সে থেকে আবারো লম্বা হতে থাকবে মহামারীর সিরিয়াল। ধীরে ধীরে আক্রান্ত হয়ে পরবে ব্যক্তি, তা থেকে পরিবার, তারপর সমাজ, এরপর পুরো বাংলাদেশ। এ মহামারীর মহকাল থেকে বাজার জন্য ব্যবসায়ী, ক্রেতা সবারই সচেতন হওয়া প্রয়োজন, না হলে লাশের বোঝা বাড়তেই থাকবে। একসময় লাশ বহন করার লোকও থাকবে না। তাই কাপড়-চোপড়ই মূখ্য না হয়ে সামাজিক দায়িত্ব বোধটা যেন সকলের মধ্যে কাজ করে, সেদিকে দৃষ্টিপাত করা উচিত।

No comments: