The social page

Saturday, June 06, 2020

June 06, 2020

স্বর্গ মিলে নারী মাঝে, সেই নারী কেন পণ্য সাজে

স্বর্গ মিলে নারী মাঝে, সেই নারী কেন পণ্য সাজে



অসীম সমুদ্রের প্রসস্থ প্রান্তর নীলিমাময়ী জোৎস্নার রঙের নীলাভ বর্ণের কোমল উপমার স্বর্গীয় মায়া হচ্ছে নারী। যার সুদীঘল বৈচিত্রময়ী পথের দিগন্ত সাজায় পুষ্প স্পর্শের আচড়ে, বর্নিল করে ধরনী, উন্মোচন করে শত ভয়াল থাবার নির্মম নির্যাতন। জীবন সুন্দরের অদৃশ্য ছোঁয়া বিকিরনের লাভা ছড়ায় প্রকৃতির বিন্দু প্রান্ত। তোমাকে ছাড়া কভু কেহ চিন্তা করে নাই সমাজ ঘরবাড়ী। নারী ছাড়া বিশ্বনগরী হতো না এতো বিচিত্রময়ী। নারী হচ্ছে একটা সংসার কারখানার প্রডাকশন ডিপার্টমেন্ট, তার হাতেই শ্রেষ্ঠত্ব তৈরির কারসাজি লুকায়িত থাকে। যেভাবে কারখানা উন্নয়ন প্রতিফলিত হয় সেভাবেই সমাজে দৃশ্যায়ন ঘটে। একটা পণ্যের গুনগত মান কত ভালো হবে তা কারখানা থেকেই থেকেই প্রস্তুত হয়ে আসে। সুদক্ষ কর্মীর দ্বারা সুদক্ষ সমাজই তৈরী হয়, অদক্ষ কর্মী দ্বারা অপরিছন্ন, কুৎসিত, বাজে প্রডাকশনই তৈরী হয়। যার ফলে সমাজে ঘটে নুংরা কাজ গুলী, এদের দ্বারা কুলসিত হয় ঘর, জাতি, দেশ, সমাজ

কোমল স্নেহের সর্বশ্রেষ্ঠ আশ্রয় স্থল নারীর আচল, সেটা মা, বোন আর যে কোন নারীর আচল হতে পারে। একটা সংসার স্বর্গে পরিণত করতে পারে নারী আবার নরকে পতিত করতে পারে নারী। কেহ পুরুষকে গোলাম বানিয়ে সে হয় গোলামের বউ, বোন, মা, আবার অনেকে পুরুষকে রাজা বানিয়ে সে হয় রানী, শাহজাদী, সম্রজ্ঞী। পুরুষতান্ত্রিক সমাজ বাস্তবতায় ধরাধামে স্বর্গ নির্মানে নারীর গুরুত্ব অপরিসীম। প্রাচীনকাল থেকেই নারীকে পন্য হিসেবে ব্যবহার করতে করতে নারীরা এখন নিজেরাই পন্য হিসেবে সেজে যায়। আদিমকাল থেকেই পুরুষ তার নিজেদের প্রয়োজনে নারীদের বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যবহার করেছে। এখন সময় নারীর ক্ষমতায়ন, অধিকার এবং আধিপত্য বিস্তারের সময়। কাল পরম্পরায় কিছু নারী তাদের অধিকারের নামে নিজেদেরকে পন্য হিসেবে হাজির করছে সমাজের স্তরে স্তরে। নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে সারা বিশ্বে একটা প্রভাব বিরাজমান, নারীর অধিকারকে সফল করার লক্ষ্যে সারা বিশ্ব কাজ করে চলেছে, নারীর দাবি ও ন্যায্যতা আদায়ে তৎপর আইনি ব্যবস্থা।
/span>
মানব সভ্যতায় নারীকে কেন্দ্র করে অনেক বড় বড় যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছে, অনেক নগরী ধ্বংস হয়ে গেছে, অনেক রাজ্য বিলীন হয়ে গেছে, অনেক বাদশাকে নামিয়েছে পথের ভিখেরিতে। আবার অনেক পুরুষ নারীর কারনে ফিরে পেয়েছে তার আধিপত্য, ঐতিহ্য, সম্মান। কালান্তরে সমাজ বাস্তবতায় নারী এসে দাড়িয়েছে একবিংশ শতাব্দীর স্যাটেলাইটের বিচিত্র স্তম্ভে। রঙ, রূপ, রসের রকমারী বিস্তারে ব্যাকুল কিছু রহস্যময়ী নারী। তারা নিজেদেরকে পন্য বানিয়ে সুন্দরকে ব্যাহত করছে। 

চারদিকে যখন নারীর জয় জয় কার, কিছু নারী ক্ষমতাকে পুজি করে ধরা কে সরা জ্ঞান মনে করে নিজেকে পণ্য হিসেবে তুলে ধরছেন সমাজের কাছে। সমাজের প্রত্যেকটা স্তরে নারী খেকো শেয়ালেরা উৎপেতে থাকে, নারীরাও সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে তাদের উদ্দেশ্য হাসিল করে নেয়। উন্নতদেশের সংক্রামনের প্রভাবগুলো নারীরা গ্রহন করে বহু পুরুষের সঙ্গে মেতে উঠেন, ফলে আমাদের দেশে দেখা যায় পারিবারিক কলহ, পরকীয়া, সাংসারিক বিচ্ছেদ, অশান্তি ইত্যাদি। পুরুষতান্ত্রিক সমাজে নারীদের অধিকার আদায়ের তাগিদে কেউ কেউ নিজেদের পন্য বানিয়ে ভিন্ন স্বাদ গ্রহন করছে।

একবিংশ শতাব্দিতে ছেলে মেয়ের রিলেশন খুবই স্বাভাবিক একটা বিষয়, এটা পরিবারগুলোও সবাই মানতে শুরু করে দিয়েছে। যত প্রযুক্তির উন্নতি হচ্ছে তার ব্যবহারে মেয়েরা যেন তত বেশি নিজেদের পন্যে রূপান্তরিত করছেন। সম্পর্ক শুরু হয় ভার্চ্যুয়াল জগৎ থেকে, আর এ জগতে সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে হলে জামা খোলাটা যেন অত্যাবশ্যকীয় বিষয় হয়ে দাড়িয়েছে। যে যত বেশি শো আপ করতে পারবে তার পিছে তত বেশি পুরুষের লাইন থাকবে। এ জগতে চলে সম্পর্কের প্রতিযোগিতা, যার যত বেশি সম্পর্ক তার মাসিক আয় টাও যেন বেশি। এখন সম্পর্কগুলো যেন টাকার আর শারীরিক চাহিদার উপর নির্ভর করেই চলে যাচ্ছে। কিছু কিছু নারী শরীলটাকে বিনিয়োগ হিসেবেই শপে দিয়েছেন। যত নতুন সম্পর্ক তার আয় ক্রমান্নয়ে বৃদ্ধিই পেতে থাকে, আর কিছু মালদার পার্টি পেলে তো কথাই নাই, সারা জীবন নাকে খর দিয়ে ঘুড়াবে। তাদের কাছে আত্নিক সম্পর্কের চেয়ে আর্থিক সম্পর্কের গুরুত্বটা বেশি

ভার্চ্যুয়াল প্রেম গুলো বেশির ভাগ যৌন চাহিদার উপর ভিত্তি করেই গড়ে উঠে। প্রথম দিন কথা হয়, দ্বিতীয় দিন গভীর প্রেম, কয়েকদিন পর সব কিছু খুলে দেয়া হয়, খোলাখুলি না হলে সম্পর্ক ওই জায়গাতেই স্টপ। ছেলেরা আরেক প্রজেক্টে দৌড়ায় মেয়েরাও আরেক স্টপেজে থামেন। সম্পর্কগুলোর স্থায়িত্বকাল যেন বীর্যপাত হওয়া পর্যন্তই। কিছু কিছু মেয়েরাও অবিরাম সম্পর্ক করেই যাচ্ছে, নিজেদের পন্য হিসেবে ছেলেদের বিছানায় হাজির করছে, নিজেদের অস্তিত্বকে হালকা ও মূল্যহীন করে দিচ্ছে। নিজেদেরকে যৌন পুতুলে পরিণত করছে, ছেলেরা যেভাবে চায় সেভাবেই ব্যবহার করছে। প্রতিদিনকার আবদারে চলে ভিডিও কলে য়ৌন লীলা, মেয়েদেরকে বলার সাথে সাথে কিছু মেয়ে স্তনের বস্ত্র খুলে ফেলে, যৌনাঙ্গের কাপড় খুলে খিস্তি করা শুরু করে দেয়, বেশিরভাগ পরিনতি ঘটে ভার্চ্যুয়াল জগতে যৌন বিনোদন হিসেবে। এখন গুটি কয়েক নারী সম্পর্ককে এমন পর্যায় নিয়ে গেছে যে প্রিয়জনকে খুশি করতে, প্রিয়জনের কাছ থেকে সার্থ হাসিল করতে বাথরুমে ঢুকে নিজেদের যৌন ভিডিও করে পাঠানো হয়। আর সেই ভিডিও কতদুর পর্যন্ত গড়ায় তা সে নারী চিন্তাই করে না। বিশ্বাসের সম্পর্ক গুলো তো জন্ম জন্মান্তর টিকে থাকে, আর সার্থের সম্পর্কগুলো পন্যে যেয়ে রূপান্তরিত হয়।

গুগল পাড়ায় মেয়েদের ভাইরাল ছবি, ভিডিও, রেকর্ডিংয়ের ছড়াছড়ি। তারা নিজেদেরকে পন্য হিসেবে মেনে নিয়েছেন বলেই ওপর পক্ষ হয়তো সুযোগটাকে কাজে লাগিয়েছে। এখন হরহামেশাই দেখা যায় রিক্সা, বাস, ট্রেন, পার্ক, বিনোদন কেন্দ্র গুলোতে মানুষের সামনেই স্তন মর্দনের বেলাল্লাপনা, দেখে মনে হয় মেয়েটার যেন বুকে ব্যথা ছেলেটাকে বলেছে বুকে হাত দিয়ে থাকার জন্য, তাই ছেলেটাও সেই দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। যৌন চাহিদা যেন এখন প্রেমের মূল উপাদানে দাড়িয়েছে। এক্ষেত্রে মেয়েরা নিজেদের পন্য হিসেবে তুলে ধরছেন বলেই কিন্তু ছেলেরাও সে সুযোগটা নিচ্ছে। আর যদি কোন মেয়ে বাধা দিত যে, আমরা বাইরে নিজেদের যৌন চাহিদা গুলো প্রকাশ করবো না, কোন সময় সুযোগ হলে ঘরের ভিতরেই নিজেদের মধ্যেই তা আবদ্ধ রাখবো! তাহলে হয়তো রাস্তাঘাটে বুক মালিশের দৃশ্যগুলি দেখতে হয়না। সম্পর্কের মাঝে এক পর্যায়ে শারীরিক সম্পর্কের দিকে গড়ায়, এখন তা যদি মানুষের বিনোদনের ঘোরাক হয়ে যায়, তবে সে সম্পর্কের মাহাত্য কতদুর পর্যন্ত গড়াবে? সম্পর্কের এমন পর্যায়ে নিজেদের নিয়ে যায় যে ঝোপ, ঝাড়, জঙ্গল, খোলা মাঠ যে কোন জায়গায় যৌন লীলার কেন্দ্র বানিয়ে ফেলেন। সেক্ষেত্রে মেয়েরা যদি নিজেদের আত্নমর্যাদার দিকে তাকাতো তবে হয়তো হাটে-ঘাটে যৌন লীলার দৃশ্যগুলো দেখতে হতো না।

আধুনিকায়নের নামে এখন পরকীয়ার যে লম্বা কাহিনী পরিলক্ষিত হয়, বহু বিবাহের যে উৎসব হয়, যৌন লীলার যে রঙ্গমঞ্চ গড়ে উঠে, মেয়েরা যদি নিজেদের আত্নমর্যাদা ধরে রেখে সম্পর্ক গুলোতে পদার্পন করে তবে হয়তো উন্মোক্ত যৌনচিন্তা কিছুটা হলেও লোপ পেত, নিজেদের কে পন্য হিসেবে কেউ ব্যবহার করতে পারতো না। উপরোক্ত বিষয়গুলোতে যে মেয়েদের শতভাগ দোষারোপ করা হবে তা নয়, ছেলেরাও এই নিন্দুকের বাহিরে নয়। পুরুষতান্ত্রিক সমাজ বাস্তবতায় অনেক অসঙ্গতি হয়তো পুরুষের দ্বারা হয়, তাই বলে আধুনিকায়নের এই যুগে নিজেদের অস্তিত্ব বিলিয়ে দিয়ে নিজেরাই পন্যে রূপান্তরিত হবে তা নারীর মর্যাদায় বড় ধরনের আঘাত হানে। নিজেদের মর্যাদার দিকে যদি নারীরা সচেতন হয় তবে অন্তত নিজেদের পন্য হিসেবে কেউ ব্যবহার করতে পারে না, যৌন চাহিদা দিয়ে সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে হয় না, বসের বিছানায় শুয়ে চাকরিটা টিকিয়ে রাখতে হয় না, ভিডিও কলে জামা-কাপড় খুলে দেখাতে হয় না, রাস্তাঘাটে অসম্মানী হতে হয় না, নিজের সম্ভ্রম দিয়ে অন্য পুরুষকে খুশি করতে হয় না, নিজেকে বিক্রি করে দিতে হয় না।